লাগে যেন জান্নাতের দরজা খুইলা দিসে রিদওয়ান।
রহমতের শো শো বাতাস হু হু কইরা ঢুইকা পড়তাসে মুমিনের ক্বলবে।
যেমন কইরা বেদুঈনের গতরে লাগে মরুভূমির বালুঝড়।
মুমিনকে মনেহয় লজ্জাবতী পাতা, সওমের ছোঁয়ায় নুইয়া পড়ে খোদার চরণে, অবনত হয় তার সেজদায়।
কানে বাজে শরবতের গ্লাসে আম্মার চামচের বারি।
ঘুম থিকা লাফ মাইরা উঠি—বাইরে দফ বাজায়া জোয়ান পোলাপান এলান করতাসে—উঠুন, জাগুন, সেহরী খাওয়ার সময় হয়েছে।
খাবার নিয়া বইসা থাকি, গলায় যায় না। অপেক্ষা ইফতারের।
সেই সে মাহেন্দ্রক্ষণের।
সকল সুর বন্ধ হয়ে গেসে। কেবল এক তানেই দুলতেসে তামাম পৃথিবী—"মাওলা ইয়া সাল্লি ওয়া সাল্লিম।"
নিজেরে গুছায়া নেই, ধুইয়া মুইছা আতর লাগাই ক্বলবে।
নিজের মইধ্যে বড় হইতে থাকা অহমরে টাইনা টুইনা দলামোচা কইরা ছোট করি—আমি কেউ না, আমার কিছু না, এ মাস তার, যিনি তায়া'লা।
হাইটা আসতে আসতে অনুভব করি—টিলাগড় হয়া গেসে মদিনার পথ, রাস্তার পাশের দোকানগুলা হয়া গেসে সাহাবায়ে আজমাইন।
সবাই খেজুর নিয়া দাঁড়ায়া আছে আগমে-গমনে রত সায়েমদের প্রতীক্ষায়।
স্বপনে দেখি পাঁচ মাসের ছেলে ফাইয়াজআমারে ডাকতেসে— বাবাউঠো, সেহরি খাবো, আইজ আমি রোজা রাখব, ভাঙতে বলবা না।
এই মাসে হুলস্থুল লাইগা যায়, কোন বেলা কই খাব? ইফতার, সন্ধ্যা, সেহরী।
ঘরে-বাইরে সবখানে উন্মুক্ত পইড়া আছে নেয়ামতের দস্তরখান। যে যেখানে পারতেসে টান দিতেসে হাতের কবজি ধইরা।
নামাজ মানেই এখন ২৯ রাকাত। তারাবী ২০ আর এশা ৯.
তেলওয়াত মানেই আলিফ লাম মীম থেকে মিনাল জিন্নাতি ওয়ান্নাস।
আমরা সব জুয়ান-জায়ান টং, ব্রিজের গোড়া আর গলির মাথা বাদ দিয়া পইড়া থাকি মসজিদের বারান্দায়, আহলে সুফফার মতন।
কিতাব হাতে হুজুর আমাদের পইড়া শোনায়—"আসসাওমু লি, ওয়া আনা আজ যি বিহি।"
দিনভর উপোস করি, রাতে দাঁড়ায়া তারাবী পড়ি—ঐতিহ্য আমাদের। বাবাদের বাবা ইব্রাহীম, তারও বাবা আদম থেকে এই ঘ্রাণ আমাদের নাকে লেগে আছে।
কুতিবা আ'লাইকুমুস সিয়ামু কামা কুতিবা আ'লাল লাযিনা মিন কাবলিক।

💙💙
ReplyDeletePost a Comment