আমি তোমাকে পেয়েছিলাম হে বিধ্বস্ত নগরী

 



রুবি, বাইরে ঝড় কি থেমে গেলো?

গুড়ুম গুড়ুম মেঘের ডাক?

বঙ্গপোসাগরের পেটের ভেতর

জমাট বাধা একদল তরুণের ক্ষোভ!

উত্তাল রক্তোচ্ছ্বাসে রাস্তার বেরিকেড

উড়িয়ে দিলো তৃণসম কেল্লার মিনার

সীমানা পেরিয়ে এলো সারসের ডানায়

গুম থেকে খুঁজে এনে দাড় করালো 

পূর্ব পুরুষের আদি অহংকার

পূর্ব নারীরা মিশে গেলো ধুলায়

ঐ যে ঝড়- তুমি এলে আচমকা মধ্যরাতে

তুমি এলে- রক্তস্নাত হয়ে আমার দরজায়

বাইবেলের আদি অক্ষরের মতো

তোমার চুল- অপাঠ্য

মুখে- শ্মশানের শেষ চিহ্ন

পুরো শরীর যেন- যাত্রাবাড়ি

বিধ্বস্ত পালমায়রা নগরীর মতো তুমি এলে

পীঠে তুমুল ঝড়- মাথায় রক্তবৃষ্টি

আমার দরজার ভেতর তোমার পায়ের ক্লেদ

যেন- সাক্ষী শহীদের

আমি জানি- দুমড়ানো এই শহর, বাড্ডা, মিরপুর

ভোর হবার আগেই সব লুট হয়ে যাবে

আমি জানি- ঝড় শেষে, গাছের তলায় যে আগে পৌঁছাবে

সেই তুলে নেবে পাকা আমটি

সেই ছিড়ে নেবে জবার মগডাল, 

যে রক্তের আড়ালে লুকিয়ে ছিলো চিরকাল

আমি জানি- ভোরে, ঝড় থেমে গেলে- তুমি আর কিছুই পাবে না

এমনকি যা তুমি ফেলে এসেছিলে গভীররাতে

তবে- কেউ কিছু না পাক- লুট হয়ে যাক ঢাকা শহর

আর যারা লুটের নয়া বন্দোবস্তের খসড়া করছে

তারাও হয়ে যাবে- রাজা মহারাজা

তাতে আমার তো কিছু যায় আসে না...

এই ঝড়ের রাতে- 

আমি তোমাকে পেয়েছিলাম হে বিধ্বস্ত নগরী

পীঠে তুমুল ঝড়, মাথায় রক্তবৃষ্টি

তোমার শরীর যেন যাত্রাবাড়ি

ঝড় থেমে গেলে তুমিও চলে যাবে জানি-

গুড়ুম গুড়ুম মেঘের ডাক কি থেমে গেলো তবে?

Post a Comment

Previous Post Next Post